Monday, April 4, 2022

ফরম

 গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত মানবাধিকার সংস্থা 

" আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দুর্নীতি বিরোধী সোসাইটি"

(উন্নয়ন তথ্য সংগ্রহ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বদ্ধপরিকর)


দেশ ও দশের স্বার্থে, দেশ ও প্রবাস থেকে আপনি ও হতে পারেন একজন সদস্য ও  মানবাধিকার কর্মী, মানুষের অধিকার আদায়ে বদ্ধপরিকর।

গভঃ রেজি নং: S-9023



কে মানবাধিকার কর্মী

 



জরুরী সেবা

 


অভিযোগ দায়েরের পদ্ধতি

 

অভিযোগ দায়েরের পদ্ধতি

দুর্নীতি দমন কমিশনের তফশিলভূক্ত অপরাধ সমূহের বিবরণসহ কমিশনের মাননীয় চেয়ারম্যান/ পরিচালক বিভাগীয় কার্যালয়/ উপপরিচালক সমন্বিত জেলা কার্যালয় বরাবর নিম্নবর্ণিত তথ্য সম্বলিত অভিযোগ দাখিল করা যাবে। এছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশনের এ অভিযোগ প্রেরণ করা যাবে। 

দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়েরের ছক:

১. অভিযোগের বিবরণ ও সময় কালঃ 
২. অভিযোগের সমর্থনে তথ্য-উপাত্ত এর বিবরণঃ 
৩. অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম, পদবী ও ঠিকানাঃ 
৪. অভিযোগকারী (যদি থাকে) নাম ঠিকানা ওটেলিফোন নম্বরসহ অভিযোগ দাখিল করতে পারবে।

106%20%281%29

 

লিখিত অভিযোগ জানাতে:
১। 'চেয়ারম্যান/কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়, ১ সেগুন বাগিচা, ঢাকা'  বরাবর।
২। 'বিভাগীয় পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন, বিভাগীয় কার্যালয়, ঢাকা/চট্টগ্রাম/রাজশাহী/খুলনা/সিলেট' বরাবর।
৩।'উপপরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন,  সমন্বিত জেলা কার্যালয় (অপরাধটি যে সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের অধীন সংঘটিত)' বরাবর।
৪। ই-মেইল: chairman@acc.org.bd 

দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের তফসিলভুক্ত অপরাধ

 


👉 সরকারি কর্তব্য পালনের সময় সরকারি কর্মচারী/ব্যাংকার/সরকার কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত যে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক উৎকোচ (ঘুষ)/উপঢৌকন গ্রহণ;


👉 সরকারি কর্মচারী/সরকার কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত যে কোনো ব্যক্তি বা অন্য কোনো যে কোনো  ব্যক্তির অবৈধভাবে নিজ নামে/বে-নামে সম্পদ অর্জন; 


👉 সরকারি অর্থ/সম্পত্তি আত্মসাৎ বা ক্ষতিসাধন;


👉 সরকারি কর্মচারী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে ব্যবসা/বাণিজ্য পরিচালনা;


👉 সরকারিকর্মচারী কর্তৃক জ্ঞাতসারে কোনো অপরাধীকে শাস্তি থেকে রক্ষার প্রচেষ্টা;


👉 কোনো ব্যক্তির ক্ষতিসাধনকল্পে সরকারি কর্মচারী কর্তৃক আইন অমান্যকরণ ; 


👉  মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহ এবং 


👉 সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী/ব্যাংকার কর্তৃক জাল-জালিয়াতি এবং প্রতারণা ইত্যাদি।

 


কোথায় অভিযোগ করবেনঃ 

👉 কমিশনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ (Anti-Corruption Commission - Bangladesh).


👉 কমিশনের ই-মেইল (chairman@acc.org.bd)


👉 যে কোনো টেলিফোন বা মোবাইল নম্বর থেকে দুদক অভিযোগকেন্দ্রের হটলাইন-১০৬ এ টোল ফ্রি টেলিফোনের মাধ্যমে এবং বিদেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা +8809612106106 -নম্বরে কল করার মাধ্যমে ।


👉 এছাড়া লিখিতভাবে কমিশনের চেয়ারম্যান/কমিশনার বরাবরে দুদক প্রধান কার্যালয় , ১ সেগুনবাগিচা, ঢাকার ঠিকানায় অথবা ৮ টি বিভাগীয় কার্যালয়ে বিভাগীয় পরিচালক বরাবরে (অপরাধটি যে বিভাগের অধীন সংঘটিত), দুর্নীতি দমন কমিশন, বিভাগীয় কার্যালয় ঢাকা/চট্টগ্রাম/রংপুর/ময়মনসিংহ/ রাজশাহী/খুলনা/বরিশাল/সিলেট ।


অথবা


👉 কমিশনের ২৩ টি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবরে (অপরাধটি যে সমনি¦ত জেলা কার্যালয়ের অধীন সংঘটিত), দুর্নীতি দমন কমিশন, সমনি¦ত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১/ঢাকা-২/টাঙ্গাইল/ফরিদপুর/ময়মনসিংহ/চট্টগ্রাম-১/চট্টগ্রাম২/রাঙ্গামাটি/কুমিল্লা/নোয়াখালী/রাজশাহী/বগুড়া/পাবনা/রংপুর/দিনাজপুর/খুলনা/কুষ্টিয়া/যশোর/বরিশাল/পটুয়াখালী/সিলেট/হবিগঞ্জ/কক্সবাজার বরাবর অভিযোগ দায়েরর সুযোগ রয়েছে।

সদস্য হতে রেজিষ্ট্রেশন করুন

 

লিংকটি তে ক্লিক করে রেজিষ্ট্রেশন করুন।

 https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSfsOrQSQbUlMH1Ir7fRrBIwgl7_BXraeKnDBJmVKbIMBkaXvQ/viewform?usp=pp_url

মানবাধিকার

 

মানবাধিকার 

আধুনিক সমাজ ও সভ্যতায় মানবাধিকার অনিবার্যভাবেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ধনী-নির্ধন নির্বিশেষে সকল দেশের মানুষের কাছে ‘মানবাধিকার’ শব্দটি বহুল পরিচিত। প্রত্যেক মানুষকে মানুষ হিসাবে বাঁচতে হলে কতকগুলাে অধিকার নিয়ে বাঁচতে হয়। মানবাধিকার বিশ্বজুড়ে সর্বজনীন ঘােষণার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে । Human Rights -এর বাংলা পরিভাষা মানবাধিকার । বস্তুত, মানবাধিকার বলতে বােঝায় মানুষের অধিকার। অর্থাৎ মানুষের মৌলিক অধিকারসহ সকল প্রকার অধিকারই মানবাধিকারের অন্তর্ভুক্ত। যদিও মানবাধিকার বিষয়টি আপেক্ষিক। এটি দেশ কাল পাত্রের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। মানবাধিকারের প্রথম ধারণা পাওয়া যায় খ্রিষ্টপূর্ব দুই হাজার বছরেরও আগে পৃথিবীর প্রাচীনতম আইন সংকলন ব্যাবিলনের রাজা হাম্বুরাবির নিয়মাবলিতে। কিন্তু আধুনিক মানবসভ্যতায় ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের রাষ্ট্রসমূহ মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘঘাষণাপত্র অনুমােদন করে। পরবর্তীতে জাতিসংঘ একের পর এক সামগ্রিক অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণের জন্য ক্রমাগত বিভিন্ন মানবাধিকার সনদ পাশ করে চলছে। সেই অনুযায়ী জাতিসংঘে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি রাষ্ট্র ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস’ পালন করে আসছে। 

অন্যান্য দেশের মতাে বাংলাদেশের সংবিধানেও মানবাধিকারের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ সংবিধানে মানুষের অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা, কর্মের অধিকার, উপযুক্ত পারিশ্রমিকের অধিকার, বিশ্রাম ও অবকাশের অধিকার, অসহায়তার অভিশাপ থেকে মুক্তির নিশ্চয়তাসহ বাক্ স্বাধীনতা, সংগঠনের অধিকার, সম্পত্তির অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবাধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে শিক্ষাহীন জনগােষ্ঠীকে শিক্ষা গ্রহণে সচেষ্ট করা, তাদের হৃদয়বৃত্তির বিকাশ ঘটানাে, তাদের সততা ও ন্যায়ের চেতনা সম্পর্কে অবহিত করা মানবাধিকারের প্রথম শর্ত। মানবাধিকার রক্ষায় ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সার্বিক দায়িত্ব পালন করা জরুরি। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি তথা গণতান্ত্রিক মূল্যবােধকে ধারণ করে পরস্পরের প্রতি মমতা, ভালােবাসা ও সহনশীলতার মধ্য দিয়ে সমাজ এগিয়ে যাবে- এটাই একটি সভ্য সমাজের ন্যূনতম বাসনা। আর এই বাসনা পূরণে মানবতার চর্চা করা এবং মানবাধিকার রক্ষা করা অনিবার্য ও অনস্বীকার্য।

কাকে বলে মানবাধিকার, কোনটা মৌলিক অধিকার

 


মানবাধিকারমানবাধিকারমৌলিক অধিকারগুলোই কি মানবাধিকার নাকি মানবাধিকারের অংশ মৌলিক অধিকার?  দুটো কি একই বিষয়? একটা কি অপরটির পরিপূরক নাকি প্রতিটিই স্বতন্ত্র? প্রশ্নগুলো অনেক সময়েই ধন্দে ফেলে। জানি আবার ঠিক জানি না এমন ইতস্তত পরিস্থিতিতে পড়তে হয় অনেককেই। তাই বিষয়টি সবার কাছে খোলাসা থাকাটা খুব জরুরি বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।  

মৌলিক অধিকার বলতে আমরা সে সব অধিকারকে বুঝি যা কোনও দেশের সংবিধান স্বীকৃত এবং যা বাস্তবায়নের ব্যাপারে সাংবিধানিক নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, মৌলিক অধিকারগুলো সবই মানবাধিকার, তবে পার্থক্য আছে। বিশেষ কারণেই রাষ্ট্র মৌলিক অধিকারকে মানবাধিকারভুক্ত হিসেবে ঘোষণা দিতে চায় না। এদিকে আইন বিশ্লেষকরা বলছেন,মানবাধিকারগুলো আইনগতভাবে প্রয়োগ বাধ্যতামূলক নয়। মৌলিক অধিকার আদালতের মাধ্যমে প্রয়োগ করতে পারবেন। সংবিধানে কিছু মৌলিক অধিকার নির্দিষ্ট আছে।বাংলাদেশে কোনও আইন যদি মৌলিক অধিকার পরিপন্থী হয় তাহলে তা বাতিল হবে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট সূক্ষ্ম বিভাজনটার বিষয়ে না জানার কারণে অধিকার আদায় প্রশ্নে কিছু ফাঁক থেকে যায়। এসব নিয়ে কাজ করতে বাংলাদেশের দায়িত্বশীল সংস্থার সংখ্যাও হাতে গোনা বলে তাদের অভিমত।

তত্ত্বাবধায়ন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের পার্থক্যের জায়গা কম। মানবাধিকারের সূত্রগুলো মৌলিক অধিকারের ওপর ভিত্তি করেই হয়। একজন মানুষ মানুষ হিসেবে জন্মেছে বলেই কিছু অধিকার সে দাবি করতে পারে। মানবাধিকারে তার চলাচলের অধিকার, জীবনের অধিকার থাকবে, বিশ্বাসের অধিকার থাকবে, বাকস্বাধীনতা থাকবে। এগুলোও মৌলিক অধিকার। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র যে মৌলিক অধিকারগুলো সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে কখনও কখনও সেগুলোকে মানবাধিকার বলে স্বীকার করতে চায় না। কারণ,নাগরিক সেই অধিকার না পেলে রাষ্ট্র দিতে বাধ্য থাকে। বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হলো তখন পাঁচটি মৌলিক অধিকার নির্ধারিত হলেও সেগুলো মানবাধিকার হিসেবে গৃহীত হলো না।  কিন্তু আমাদের ৩১ থেকে ৩৫ ধারায় মানবাধিকারের বিষয়গুলো আনা হলো। অর্থনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো না কিন্তু নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো।

ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম মনে করেন, মানবাধিকারগুলো আইনগতভাবে প্রয়োগ সবসময় বাধ্যতমূলক নয়। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,মানবাধিকারের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক সনদের মাধ্যমে বলা আছে। এই মানবাধিকারগুলো আইনগতভাবে প্রয়োগ করতে সব দেশ সবসময় বাধ্য নয়। তিনি আরও বলেন, সংবিধানে কিছু মৌলিক অধিকার নির্দিষ্ট আছে। বাংলাদেশের কোনও আইন যদি মৌলিক অধিকার পরিপন্থী হয় তাহলে বাতিল হবে। মৌলিক অধিকার অনেক শক্তিশালী, নাগরিককে ব্যাপক অর্থে নিরাপত্তা দেয়। তিনি বলেন, সব মানবাধিকার মৌলিক অধিকার না। মানবাধিকার অনেক উঁচু মাপের অধিকার, যেটির মধ্যে মৌলিক অধিকারের কথাও রয়েছে।

মানবাধিকার কর্মী আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মানুষের যে অধিকার বেঁচে থাকার জন্য অতীব জরুরি সেগুলো মৌলিক অধিকার। এ অধিকারের পাশাপাশি এটি নিশ্চিত করার জন্য মানুষের কথা বলা, প্রতিবাদ করা, সমস্যার কথা তোলা, এই অধিকারটাই মানবাধিকার। বাংলাদেশে সেই অধিকার কতটুকু নিশ্চিত হচ্ছে প্রশ্নে তিনি আরও বলেন,  অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অনেক উন্নয়ন সাধিত হলেও মানুষের স্বস্তির জায়গা, বেঁচে থাকার জন্য যে অধিকার দরকার সেগুলো অনেকক্ষেত্রেই সংকুচিত। গুম ‘ক্রসফায়ারের’ নামে যে ঘটনা, বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি প্রবাহিত, এটার মধ্য দিয়ে সমাজে বিভীষিকাময় অবস্থা তৈরি হয়েছে।বাংলাদেশে মানবাধিকার সংস্থাগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে না । না পারার পেছনে কারণ সমাজে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করে,লুটপাটের অর্থনীতি বিকশিত হলে তখন এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী স ম রেজাউল করীম মনে করেন বাংলাদেশে প্রত্যাশিত মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি তবে মানবধিকার নেই এটি বলার সুযোগ নেই।তিনি বলেন, মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের পার্থক্যের জায়গা নির্দিষ্টই আছে, সেটি বিবেচনায় রাখা জরুরি। তিনি বলেন, মৌলিক অধিকার সংবিধান সম্মতভাবে নির্ধারিত। যেকোনও নাগরিকের সহজাত অধিকারগুলোকে মানবাধিকার বলা হয়।এর নির্দিষ্ট সীমারেখা করে দেওয়া হয়নি।উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন,আমি রাস্তায় চলাচলের অধিকার রাখি, যদি কেউ বলে আমি সে রাস্তায় যেতে পারবো না সেটা মানবাধিকার লঙ্ঘন কিন্তু এটি মৌলিক অধিকার নয়। একজন চাকরি পচ্ছে না, এটা মৌলিক অধিকার নয়। কিন্তু চাকরির যো্গ্য হয়েও না দেওয়া হলে এটি তার প্রতি অমানবিক আচরণ করা হয়েছে তার মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।

অভিযোগ দায়েরের পদ্ধতি

 


কে অভিযোগ করতে পারেন?

জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে যে কোন বয়সের দেশী বা বিদেশী যে কোন ব্যক্তি কমিশনে অভিযোগ করতে পারেন। অর্থাৎ গ্রামের বা শহরের, সমতলের বা পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর ধনী, গরীব, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষিত অথবা অশিক্ষিত যে কেউ কমিশনে অভিযোগ করতে পারেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নিজে অথবা তাঁর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানও অভিযোগ করতে পারেন। অবস্থা বিবেচনায় কমিশন স্ব-উদ্যোগেও অভিযোগ গ্রহণ করতে পারে।

কী ধরনের অভিযোগ করা যায়?

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে যে অধিকারগুলি সকল নাগরিককে দেওয়া হয়েছে তার লঙ্ঘন হলে বা লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি হলে বা স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে বর্ণিত অধিকারসমূহ লঙ্ঘিত হলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ করা যায়। কেউ যদি মনে করেন যে, মানুষ হিসাবে রাষ্ট্রের কাছে তাঁর জীবন, সমতা ও মর্যাদার যে অধিকার পাওনা আছে তা ক্ষুণ্ন হয়েছে কিংবা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় বা সরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন বা কোন জনসেবক বা কোন ব্যক্তি কর্তৃক মানবাধিকার (জীবন, অধিকার, সমতা ও মর্যাদা সংক্রান্ত অধিকার) লঙ্ঘন করা হয়েছে বা লঙ্ঘনের প্ররোচনা দেওয়া হয়েছে বা এই সব অধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে অবহেলা করা হয়েছে তাহলে মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ করা যায়।

কীভাবে অভিযোগ দাখিল করবেন?

কমিশনের নির্ধারিত ফরমে অথবা সাদা কাগজে হাতে লিখে বা টাইপ করে, কমিশনের অফিসে নিজে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে অথবা ডাক মারফত, ফ্যাক্স অথবা ইমেইলের মাধ্যমে অভিযোগ পাঠানো যায়। অভিযোগের সাথে অন্যান্য কাগজপত্র, ছবি, অডিও, ভিডিও ক্লিপ ইত্যাদি সংযুক্ত করা যেতে পারে।

অনলাইনে অভিযোগ দাখিল করবেন কীভাবে?

অনলাইনে অভিযোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি সফটওয়ারের মাধ্যমে অভিযোগ দাখিল করা যায়। অনলাইনে অভিযোগ দাখিল করার জন্য ভিজিট করুনঃ  www.complaint.nhrc.org.bd.  এরপর পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

অভিযোগ দেওয়ার পর কী হয়?

(১)        অভিযোগ গ্রহণ করার পর কমিশনের বাছাই সেল অভিযোগটির আইনগত দিক পরীক্ষা করে দেখবে;

(২)        বাছাই সেল যদি দেখে যে আবেদনটি কমিশনের এখতিয়ারের বাইরে তাহলে অভিযোগকারীর কী করা উচিত সে বিষয়ে পরামর্শসহ পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে অভিযোগকারীর ঠিকানায় লিখিত উত্তর পাঠাবে;

(৩)        অভিযোগটি কমিশনের এখতিয়ারের মধ্যে হলে কমিশন অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে;

(৪)        তদন্তে যদি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় প্রকাশ পায় তাহলে কমিশন অভিযোগকারী এবং অভিযুক্তের মধ্যে উদ্ভূত বিরোধটি মধ্যস্থতা ও সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করবে;

(৫)         মধ্যস্থতা সফল না হলে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা বা অন্য কোন কার্যধারা দায়ের করার জন্য কমিশন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করবে  

মনে রাখবেন

 (১)       অভিযোগ করা বা অভিযোগ সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া, অভিযোগ করার আগে পরামর্শ করা ইত্যাদির জন্য অভিযোগ দায়ের থেকে নিষ্পত্তির কোন পর্যায়েই কোনো আর্থিক লেনদেন/ খরচ করার প্রয়োজন হয় না।

(২)        কমিশনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যেন তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে নাগরিকের মর্যাদা, সম্মান, সমতা ইত্যাদির অধিকার লঙ্ঘন করতে না পারে তার প্রতি লক্ষ্য রেখে দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা।

মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র, ১৯৪৮

 




 

যেহেতু মানব পরিবারের সকল সদস্যের সমান ও অবিচ্ছেদ্য অধিকারসমূহ এবং সহজাত মর্যাদার স্বীকৃতিই হচ্ছে বিশ্বে শান্তি, স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তি;

যেহেতু মানব অধিকারের প্রতি অবজ্ঞা এবং ঘৃণার ফলে মানুষের বিবেক লাঞ্ছিত বোধ করে এমন সব বর্বরোচিত ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এবং যেহেতু এমন একটি পৃথিবীর উদ্ভবকে সাধারণ মানুষের সর্বোচ্চ কাংখা রূপে ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে সকল মানুষ ধর্ম এবং বাক স্বাধীনতা ভোগ করবে এবং অভাব ও শংকামুক্ত জীবন যাপন করবে;

যেহেতু মানুষ যাতে অত্যাচার ও উত্‍পীড়নের মুখে সর্বশেষ উপায় হিসেবে বিদ্রোহ করতে বাধ্য না হয় সেজন্য আ‌ইনের শাসন দ্বারা মানবাধিকার সংরক্ষণ করা অতি প্রয়োজনীয়;

যেহেতু জাতিসমূহের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নের প্রয়াস গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক;

যেহেতু সদস্য জাতিসমূহ জাতিসংঘের সনদে মৌলিক মানবাধিকার, মানব দেহের মর্যাদা ও মূল্য এবং নারী পুরুষের সমান অধিকারের প্রতি তাঁদের বিশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং বৃহত্তর স্বাধীনতার পরিমণ্ডলে সামাজিক উন্নতি এবং জীবনযাত্রার উন্নততর মান অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়েছেন;

যেহেতু সদস্য রাষ্ট্রসমূহ জাতিসংঘের সহযোগিতায় মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা সমূহের প্রতি সার্বজনীন সম্মান বৃদ্ধি এবং এদের যথাযথ পালন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্য অর্জনে অঙ্গীকারবদ্ধ;

যেহেতু এ স্বাধীনতা এবং অধিকারসমূহের একটি সাধারণ উপলব্ধি এ অঙ্গীকারের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ

এজন্য এখন সাধারণ পরিষদ এই মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র জারী করছে

এ ঘোষণা সকল জাতি এবং রাষ্ট্রের সাফল্যের সাধারণ মানদণ্ড হিসেবে সে‌ই লক্ষ্যে নিবেদিত হবে, যেখানে প্রতিটি ব্যক্তি এবং সমাজের প্রতিটি অঙ্গ এ ঘোষণাকে সবসময় মনে রেখে পাঠদান ও শিক্ষার মাধ্যমে এ‌ই স্বাধীনতা ও অধিকার সমূহের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করতে সচেষ্ট হবে এবং সকল সদস্য রাষ্ট্র ও তাদের অধীনস্থ ভূখণ্ডের জাতিসমূহ উত্তরোত্তর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়াসের মাধ্যমে এ‌ই অধিকার এবং স্বাধীনতাসমূহের সার্বজনীন ও কার্যকর স্বীকৃতি আদায় এবং যথাযথ পালন নিশ্চিত করবে।



ধারা ১

সমস্ত মানুষ স্বাধীনভাবে সমান মর্যাদা এবং অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তাঁদের বিবেক এবং বুদ্ধি আছে; সুতরাং সকলেরই একে অপরের প্রতি ভ্রাতৃত্বসুলভ মনোভাব নিয়ে আচরণ করা উচিৎ।



ধারা ২

এ ঘোষণায় উল্লেখিত স্বাধীনতা এবং অধিকারসমূহে গোত্র, ধর্ম, বর্ণ, শিক্ষা, ভাষা, রাজনৈতিক বা অন্যবিধ মতামত, জাতীয় বা সামাজিক উত্‍পত্তি, জন্ম, সম্পত্তি বা অন্য কোন মর্যাদা নির্বিশেষে প্রত্যেকের‌ই সমান অধিকার থাকবে।



কোন দেশ বা ভূখণ্ডের রাজনৈতিক, সীমানাগত বা আন্তর্জাতিক মর্যাদার ভিত্তিতে তার কোন অধিবাসীর প্রতি কোনরূপ বৈষম্য করা হবেনা; সে দেশ বা ভূখণ্ড স্বাধীন‌ই হোক, হোক অছিভূক্ত, অস্বায়ত্বশাসিত কিংবা সার্বভৌমত্বের অন্য কোন সীমাবদ্ধতায় বিরাজমান।



ধারা ৩

জীবন, স্বাধীনতা এবং দৈহিক নিরাপত্তায় প্রত্যেকের অধিকার আছে।



ধারা ৪

কা‌উকে অধীনতা বা দাসত্বে আবদ্ধ করা যাবে না। সকল প্রকার ক্রীতদাস প্রথা এবং দাসব্যবসা নিষিদ্ধ করা হবে।



ধারা ৫

কা‌উকে নির্যাতন করা যাবে না; কিংবা কারো প্রতি নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ করা যাবে না অথবা কা‌উকে এহেন শাস্তি দেওয়া যাবে না।



ধারা ৬

আইনের সামনে প্রত্যেকেরই ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি লাভের অধিকার আছে।



ধারা ৭

আইনের চোখে সবাই সমান এবং ব্যক্তিনির্বিশেষে সকলেই আইনের আশ্রয় সমানভাবে ভোগ করবে। এই ঘোষণা লঙ্ঘন করে এমন কোন বৈষম্য বা বৈষম্য সৃষ্টির প্ররোচনার মুখে সমান ভাবে আশ্রয় লাভের অধিকার প্রত্যেকেরই আছে।



ধারা ৮

শাসনতন্ত্রে বা আইনে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে উপযুক্ত জাতীয় বিচার আদালতের কাছ থেকে কার্যকর প্রতিকার লাভের অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে।


ধারা ৯

কাউকেই খেয়ালখুশীমত গ্রেপ্তার বা অন্তরীণ করা কিংবা নির্বাসন দেওয়া যাবে না।


ধারা ১০

নিজের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ এবং নিজের বিরুদ্ধে আনীত ফৌজদারী অভিযোগ নিরূপণের জন্য প্রত্যেকেরই পূর্ণ সমতার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ বিচার-আদালতে প্রকাশ্য শুনানি লাভের অধিকার রয়েছে।



ধারা ১১

১. দণ্ডযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের নিশ্চিত অধিকারসম্বলিত একটি প্রকাশ্য আদালতে আইনানুসারে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ গণ্য হওয়ার অধিকার থাকবে।

২. কা‌উকে‌ই এমন কোন কাজ বা ত্রুটির জন্য দণ্ডযোগ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না, যে কাজ বা ত্রুটি সংঘটনের সময় জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আ‌ইনে দণ্ডনীয় অপরাধ ছিলনা। দণ্ডযোগ্য অপরাধ সংঘটনের সময় যে শাস্তি প্রযোজ্য ছিল, তার চেয়ে গুরুতর শাস্তি‌ও দে‌ওয়া চলবে না।



ধারা ১২

কারো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কিংবা তাঁর গৃহ, পরিবার ও চিঠিপত্রের ব্যাপারে খেয়ালখুশীমত হস্তক্ষেপ কিংবা তাঁর সুনাম ও সম্মানের উপর আঘাত করা চলবে না। এ ধরনের হস্তক্ষেপ বা আঘাতের বিরুদ্ধে আ‌ইনের আশ্রয় লাভের অধিকার প্রত্যেকের‌ই রয়েছে।



ধারা ১৩

১. নিজ রাষ্ট্রের চৌহদ্দির মধ্যে স্বাধীনভাবে চলাফেরা এবং বসবাস করার অধিকার প্রত্যেকের‌ই রয়েছে।

২. প্রত্যেকের‌ই নিজ দেশ সহ যে কোন দেশ পরিত্যাগ এবং স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের অধিকার রয়েছে।



ধারা ১৪

১. নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পা‌ওয়ার জন্য ভিন্নদেশে আশ্রয় প্রার্থনা করবার এবং সে দেশের আশ্রয়ে থাকবার অধিকার প্রত্যেকের‌ই রয়েছে।

২. অরাজনৈতিক অপরাধ এবং জাতিসংঘের উদ্দেশ্য এবং মূলনীতির পরিপন্থী কাজ থেকে সত্যিকারভাবে উদ্ভূত অভিযোগের ক্ষেত্রে এ অধিকার প্রার্থনা না‌ও করা যেতে পারে।



ধারা ১৫

১. প্রত্যেকের‌ই একটি জাতীয়তার অধিকার রয়েছে।

২. কা‌উকে‌ই যথেচ্ছভাবে তাঁর জাতীয়তা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না, কিংবা কারো জাতীয়তা পরিবর্তনের অধিকার অগ্রাহ্য করা যাবে না।



ধারা ১৬

১. ধর্ম, গোত্র ও জাতি নির্বিশেষে সকল পূর্ণ বয়স্ক নরনারীর বিয়ে করা এবং পরিবার প্রতিষ্ঠার অধিকার রয়েছে। বিয়ে, দাম্পত্যজীবন এবং বিবাহবিচ্ছেদে তাঁদের সমান অধিকার থাকবে।

২. বিয়েতে ইচ্ছুক নরনারীর স্বাধীন এবং পূর্ণ সম্মতিতে‌ই কেবল বিয়ে সম্পন্ন হবে।

৩. পরিবার হচ্ছে সমাজের স্বাভাবিক এবং মৌলিক গোষ্ঠী-একক, সুতরাং সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তা লাভের অধিকার পরিবারের রয়েছে।



ধারা ১৭

১. প্রত্যেকের‌ই একা অথবা অন্যের সঙ্গে মিলিতভাবে সম্পত্তির মালিক হ‌ওয়ার অধিকার আছে।

২. কা‌উকে‌ই যথেচ্ছভাবে তাঁর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।



ধারা ১৮

প্রত্যেকের‌ই ধর্ম, বিবেক ও চিন্তার স্বাধীনতায় অধিকার রয়েছে। এ অধিকারের সঙ্গে ধর্ম বা বিশ্বাস পরিবর্তনের অধিকার এবং এ‌ই সঙ্গে, প্রকাশ্যে বা একান্তে, একা বা অন্যের সঙ্গে মিলিতভাবে, শিক্ষাদান, অনুশীলন, উপাসনা বা আচারব্রত পালনের মাধ্যমে ধর্ম বা বিশ্বাস ব্যক্ত করার অধিকার‌ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।



ধারা ১৯

প্রত্যেকের‌ই মতামত পোষণ এবং মতামত প্রকাশের স্বাধীনতায় অধিকার রয়েছে। অবাধে মতামত পোষণ এবং রাষ্ট্রীয় সীমানা নির্বিশেষে যে কোন মাধ্যমের মারফত ভাব এবং তথ্য জ্ঞাপন, গ্রহণ ও সন্ধানের স্বাধীনতা‌ও এ অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।



ধারা ২০

১. প্রত্যেকের‌ই শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অংশগ্রহণ ও সমিতি গঠনের স্বাধীনতায় অধিকার রয়েছে।

২. কা‌উকে কোন সংঘভূক্ত হতে বাধ্য করা যাবে না।



ধারা ২১

১. প্রত্যক্ষভাবে বা অবাধে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিজ দেশের শাসন পরিচালনায় অংশগ্রহণের অধিকার প্রত্যেকের‌ই রয়েছে।

২. নিজ দেশের সরকারী চাকুরীতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার প্রত্যেকের‌ই রয়েছে।

৩. জনগণের ইচ্ছা‌ই হবে সরকারের শাসন ক্ষমতার ভিত্তি; এ‌ই ইচ্ছা নিয়মিত সময়ের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত প্রকৃত নির্বাচনের মাধ্যমে ব্যক্ত হবে; গোপন ব্যালট কিংবা সমপর্যায়ের কোন অবাধ ভোটদান পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।



ধারা ২২

সমাজের সদস্য হিসেবে প্রত্যেকের‌ই সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার আছে। জাতীয় প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রের সংগঠন ও সম্পদের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রত্যেকের‌ই আপন মর্যাদা এবং ব্যক্তিত্বের অবাধ বিকাশের জন্য অপরিহার্য সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারসমূহ আদায়ের অধিকার রয়েছে।



ধারা ২৩

১. প্রত্যেকের‌ই কাজ করার, স্বাধীনভাবে চাকুরী বেছে নেবার, কাজের ন্যায্য এবং অনুকূল পরিবেশ লাভ করার এবং বেকারত্ব থেকে রক্ষিত হবার অধিকার রয়েছে।

২. কোনরূপ বৈষম্য ছাড়া সমান কাজের জন্য সমান বেতন পাবার অধিকার প্রত্যেকের‌ই আছে।

৩. কাজ করেন এমন প্রত্যেকের‌ই নিজের এবং পরিবারের মানবিক মর্যাদার সমতুল্য অস্তিত্বের নিশ্চয়তা দিতে পারে এমন ন্যায্য ও অনুকূল পারিশ্রমিক লাভের অধিকার রয়েছে; প্রয়োজনবোধে একে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাদি দ্বারা পরিবর্ধিত করা যেতে পারে।

৪. নিজ স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য প্রত্যেকের‌ই ট্রেড ই‌উনিয়ন গঠন এবং তাতে যোগদানের অধিকার রয়েছে।


ধারা ২৪

প্রত্যেকের‌ই বিশ্রাম ও অবসরের অধিকার রয়েছে; নিয়মিত সময়ের ব্যবধানে বেতনসহ ছুটি এবং পেশাগত কাজের যুক্তিসঙ্গত সীমা‌ও এ অধিকারের অন্তর্ভূক্ত।



ধারা ২৫

১. খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিত্‍সা ও প্রয়োজনীয় সমাজ কল্যাণমূলক কার্যাদির সুযোগ এবং এ সঙ্গে পীড়া, অক্ষমতা, বৈধব্য, বার্ধক্য অথবা জীবনযাপনে অনিবার্যকারণে সংঘটিত অন্যান্য অপারগতার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং বেকার হলে নিরাপত্তার অধিকার সহ নিজের এবং নিজ পরিবারের স্বাস্থ্য এবং কল্যাণের জন্য পর্যাপ্ত জীবনমানের অধিকার প্রত্যেকের‌ই রয়েছে।

২. মাতৃত্ব এবং শৈশবাবস্থায় প্রতিটি নারী এবং শিশুর বিশেষ যত্ন এবং সাহায্য লাভের অধিকার আছে। বিবাহবন্ধন-বহির্ভূত কিংবা বিবাহবন্ধনজাত সকল শিশু অভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ করবে।



ধারা ২৬

১. প্রত্যেকের‌ই শিক্ষালাভের অধিকার রয়েছে। অন্ততঃপক্ষে প্রাথমিক ও মৌলিক পর্যায়ে শিক্ষা অবৈতনিক হবে। প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক হবে। কারিগরী ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সাধারণভাবে লভ্য থাকবে এবং উচ্চতর শিক্ষা মেধার ভিত্তিতে সকলের জন্য সমভাবে উন্মুক্ত থাকবে।

২. ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ এবং মানবিক অধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা-সমূহের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে শিক্ষা পরিচালিত হবে। শিক্ষা সকল জাতি, গোত্র এবং ধর্মের মধ্যে সমঝোতা, সহিষ্ণুতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নের প্রয়াস পাবে এবং শান্তিরক্ষার স্বার্থে জাতিসংঘের কার্যাবলীকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

৩. কোন ধরনের শিক্ষা সন্তানকে দে‌ওয়া হবে, তা বেছে নেবার পূর্বাধিকার পিতামাতার থাকবে।


ধারা ২৭

১. প্রত্যেকের‌ই সমষ্টিগত সাংস্কৃতিক জীবনে অংশগ্রহণ করা, শিল্পকলা উপভোগ করা এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ও তার সুফল সমূহে অংশীদার হ‌ওয়ার অধিকার রয়েছে।

২. বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শিল্পকলা ভিত্তিক কোন কর্মের রচয়িতা হিসেবে নৈতিক ও বৈষয়িক স্বার্থ সংরক্ষণের অধিকার প্রত্যেকের‌ই থাকবে।


ধারা ২৮

এ ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত অধিকার ও স্বাধীনতাসমূহের বাস্তবায়ন সম্ভব এমন একটি সামাজিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় অংশীদারীত্বের অধিকার প্রত্যেকের‌ই আছে।


ধারা ২৯

১. প্রত্যেকের‌ই সে সমাজের প্রতি পালনীয় কর্তব্য রয়েছে, যে সমাজে‌ই কেবল তাঁর আপন ব্যক্তিত্বের স্বাধীন এবং পূর্ণ বিকাশ সম্ভব।

২. আপন স্বাধীনতা এবং অধিকারসমূহ ভোগ করার সময় প্রত্যেকে‌ই কেবলমাত্র ঐ ধরনের সীমাবদ্ধতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন যা অন্যদের অধিকার ও স্বাধীনতাসমূহ নিশ্চিত করা এবং একটি গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নৈতিকতা, গণশৃংখলা ও সাধারণ কল্যাণের ন্যায়ানুগ প্রয়োজন মেটাবার জন্য আ‌ইন দ্বারা নির্ণীত হবে।

৩. জাতিসংঘের উদ্দেশ্য ও মূলনীতির পরিপন্থী কোন উপায়ে এ অধিকার ও স্বাধীনতাসমূহ ভোগ করা যাবে না।


ধারা ৩০

কোন রাষ্ট্র, গোষ্ঠী বা ব্যক্তি এ ঘোষণাপত্রের কোন কিছুকে‌ই এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবেন না, যার বলে তারা এ‌ই ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত অধিকার ও স্বাধীনতাসমূহ নস্যাত্‍ করতে পারে এমন কোন কাজে লিপ্ত হতে পারেন কিংবা সে ধরনের কোন কাজ সম্পাদন করতে পারেন।


তথ্য সুত্রঃ United Nations Human Rights



Sunday, April 3, 2022

সংস্থার পরিচিতি

আন্তজার্তিক মানবাধিকার দূর্নীতি বিরোধী সোসাইটি আইনের শাসন ও সর্বস্তরে শান্তি প্রতিষ্ঠাসহ মানবাধিকার উন্নয়ন ও সংরক্ষণে নিবেদিত একটি স্বেচ্ছাসেবী, অরাজনৈতিক ও অলাভজনক মানবাধিকার বিষয়ক এবং নির্যাতন দূর্নীতি বিরোধী আন্তঃমহাদেশীয় ও এশিয়ার বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদ (Bill of Rights) এর উপর ভিত্তি করে ২০০৯ইং সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সরকারের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এনজিও বিষয়ক ব্যুরো এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত জয়েন্ট স্টক অব কোম্পানিজ এন্ড ফার্ম এর অধীনে রেজিস্টার্ড প্রাপ্ত হয়।(S-9023) দেশের বৃহত্তর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন, জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কো, ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টস্-আইসিজে (জেনেভা), ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন এ্যাগেইনস্ট টর্চার-ওএমসিটি (জেনেভা) আফ্রিকান কমিশন অন হিউম্যান এন্ড পিপলস্ রাইটস্-এসিএইচপিআর (গাম্বিয়া)- সহ বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের নিয়মে পরিচালিত। 



অহিংসার প্রতিপাদ্যে বিশ্বাসী, সংস্থার সারাদেশে প্রতিটি জেলায় জেলা শাখা, মহানগর, উপজেলা/থানা ও পৌরসভা শাখায় রয়েছেন হাজারো সদস্য প্রতিনিয়ত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সহ মানবতার সেবায় আÍনিয়োগ করছে। দেশের বরেণ্য তথা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যথাক্রমে শিক্ষাবিদ, আইনবিদ, সাংবাদিক, চিকিৎসক সহ বিশিষ্ট সমাজ সেবীগণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দূর্নীতি বিরোধী সোসাইটির সদর দপ্তর ও শাখাগুলোতে সদস্য/সদস্যা হিসেবে অন্তর্ভূক্ত রয়েছেন। 


এছাড়া সোসাইটির প্রতিটি শাখা কমিটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মহিলা প্রতিনিধি এবং সংখ্যালঘু ও উপজাতি প্রতিনিধিরা অন্তর্ভূক্ত রয়েছেন। সারা দেশের প্রতিটি শাখা তথা শাখার সদস্য/সদস্যারা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী ভাবে সমাজের অন্যায়, অবিচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে তথা আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সোসাইটির প্রতিটি শাখা নিজ নিজ ক্ষেত্রে মানবাধিকার উন্নয়ন ও সংরক্ষণকল্পে অসহায় নারী-পুরুষদের বিনামূল্যে আইনগত সাহায্যের লক্ষ্যে সালীশির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান, প্রশাসনের মাধ্যমে মানবাধিকার লংঘন রোধ, বিভিন্ন মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা তদন্ত ও নিরপেক্ষ প্রতিবেদন তৈরী করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ, মানবাধিকার ম্যাগাজিন নিয়মিত প্রকাশ, নির্যাতিতদের পক্ষে আদালতে মামলা দায়ের করে অধিকারহীন নারী-পুরুষের অধিকার আদায়ের ব্যবস্থা করা, মানবাধিকার বিষয়ে সচেনতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা, মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন পুস্তিকা লিফল্যাট ও পোস্টার প্রকাশনা, সকল নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা, আত্মনির্ভরশীল প্রকল্প চালু করা এবং দুর্যোগকালীন সময়ে দূর্গতদের পাশে এগিয়ে আসা সহ বহুমুখী কর্মসূচী অব্যাহত ভাবে পালন করছে।
International Human Rights anti corruption society



ফরম

 গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত মানবাধিকার সংস্থা  " আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দুর্নীতি বিরোধী সোসাইটি" (উন্নয়ন তথ্য সংগ্রহ ও...